March 27, 2026, 12:20 pm

শুভব্রত আমান/
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাসটির চালক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন গাড়িটিকে থামাতে। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কাছে হার মানতে হয় তাকে—শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই সেই লড়াই শেষ করেন চালক আরমান খান (৩১)।
দুর্ঘটনাটি নিয়ে শুরুতে নানা গুঞ্জন থাকলেও অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বাসটি তিনিই চালাচ্ছিলেন। ফেরিতে ওঠার আগমুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। পরে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তার দেহও পাওয়া যায়—যা প্রমাণ করে, শেষ পর্যন্ত স্টিয়ারিং ছেড়ে তিনি পালিয়ে যাননি।
এদিকে, দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত সরকারের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। আজ শুক্রবার ভোরে কমিটির সদস্যরা ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন।
বিভিন্ন সূত্রের অনুসন্ধানে দুর্ঘটনার কিছু কারন ইতোমধ্যে উঠে এসেছে। জানা গেছে, দুর্ঘটনার মুহুর্তে বাসটির চালক গাড়িতেই ছিলেন। দুর্ঘটনা রোধ করতে তিনি চেষ্টা করেছিলেন। ঐ সময় প্রাণপণ ব্রেক চাপলেও তা কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাসটির এয়ার ব্রেক সিস্টেমে পর্যাপ্ত চাপ (হাওয়া) না থাকায় এই বিপর্যয় ঘটে। বিশেষ করে ইঞ্জিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু করে সঙ্গে সঙ্গে ব্রেক চাপলে অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে ব্রেক কাজ করে না—এমনটাই ধারণা মেকানিক ও অভিজ্ঞ চালকদের।
ঘাট সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চালক একাধিকবার চেষ্টা করেও বাসটি থামাতে পারেননি। কয়েক সেকেন্ডের সেই লড়াইয়ে তিনি শেষ চেষ্টা চালিয়েছিলেন, কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন বাসটি সোজা নদীতে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বক্তব্যও একই ইঙ্গিত দেয়—শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চালক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কেউ কেউ জানান, তিনি হঠাৎ কোনো ভুল করেননি; বরং হঠাৎ করেই বাসটি সামনে এগিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক এয়ার ব্রেক প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যাপ্ত এয়ার প্রেসার না থাকলে ব্রেক অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে পন্টুনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিও এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
এই দুর্ঘটনায় ২৬টি প্রাণ ঝরে গেছে। ঈদের ছুটি শেষে জীবিকার টানে রাজধানীতে ফেরা মানুষগুলো আর ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। তাদের সঙ্গে নিভে গেছে অসংখ্য স্বপ্ন।
সবশেষে, এই ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি এক চালকের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের গল্পও। যিনি চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেননি; তবু পালিয়ে যাননি।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয়ের পরিবহন প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা আদেশে অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের একজন প্রতিনিধি, নৌপুলিশের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস ডেইলি সানকে জানান, ‘দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে।